কেন কথোপকথন

কলকাতা কমন্স সিরা [Kolkata Commons Centre for Interdisciplinary Research and Analytics (CIRA)] থেকে, বাংলার গ্রামীণ শিল্প নির্ভর অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই আমরা ঢুকে পড়েছিলাম, সাহিত্যের ক্ষেত্রে। সেটা খানিকটা অনধিকার চর্চাই ছিলো শুরুর দিকে। কারণ মূলতঃ অঙ্ক ও পরিসংখ্যানবিদ্যার উপর ভর করেই, কলকাতা কমন্সের কাজ শুরু হয়েছিল। কাজের ক্ষেত্র ছিলো মূলতঃ পলিসি রিসার্চ। কিন্তু অচিরেই দেখা গেলো প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তথ্য ও সংখ্যার অকুলানের কারণে, আমাদের Statistics ছেড়ে অনেক বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে, Cultural Studies-এর উপর। ২০১৬ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি থেকে, আমরা, শ্রী শঙ্খ ঘোষের পৌরহিত্যে আমরা শুরু করি, ‘কথোপকথন’। কথোপকথনের চেষ্টাটা প্রথম যখন শুরু হয়েছিল, ভাবনাটা ছিল, একটা সমন্বয়ের, বিনিময়ের জায়গা তৈরি করা। যেকোন ধরণের সৃজনশীলতাকে নিয়ে, স্রষ্টা ও দর্শক-শ্রোতার মধ্যে। আজ প্রায় দুবছর হতে চললো, ব্যাপারটার ধারাবাহিকতা দেখে, এটা ভাবতে সাহস জাগে, শুরুটা নেহাৎ মন্দ হয়নি। শুরুতে অবশ্য সবথেকে বেশি সময় গেছে, চর্চা এই চেনা অথচ অনুশীলনে না থাকা অভ্যাসটা তৈরি করতে। যাঁরা কথোপকথনে যোগ দিচ্ছেন, সবাই নির্ভয়ে, নিজেদের মনে হওয়া, বুঝতে না পারা, প্রশ্ন ইত্যাদি রাখতে পারবেন, কোনরকম কৌলীন্য বা কৃতবিদ্যতার দাবী যেন চর্চার পরিসরটাকে বিঘ্নিত করতে না পারে। গত দু বছরে, বাংলায়ভাষায় সৃজনশীল চর্চার সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু মানুষ, কথোপকথনে যোগ দিয়ে ব্যাপারটাকে সফল করে তুলেছেন। কথোপকথনের এই উদ্যোগের হাত ধরেই তৈরি হয়, কিউরেটেড বুক স্পেস। আপনি বই কিনতে পারেন, যদি এই যত্নটুকু নিতে পারেন যে আপনি পড়ার পরে আরও কেই বইটা কিনতে পারবেন, তাহলে, বসে পড়তেও পারেন। বাংলা বই-এর প্রকাশকদের অনেকেই আমাদের উদ্যোগটাকে সফল করতে এগিয়ে এসেছেন।